নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি
নারায়ণগঞ্জের রুপগঞ্জে গাজী টায়ারস কারখানার পুড়ে যাওয়া ছয়তলা ভবনের বেজমেন্টে আগুন পৌঁছায়নি, সেখানে ‘ভিক্টিম’ কাউকে পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছে ফায়ার সার্ভিস।
গতকাল বৃহস্পতিবার বেলা ১২টার দিকে ফায়ার সার্ভিসের একটি দল ভবনটির বেজমেন্টে ঢুকে অনুসন্ধান চালানোর পর এ কথা জানিয়েছেন নারায়ণগঞ্জ ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্সের উপসহকারী পরিচালক আব্দুল মন্নান।
তিনি বলেন, ভবনটিতে একটি বেজমেন্ট রয়েছে বলে একটি তথ্য আমাদের কাছে ছিল। সেখানে কেউ আটকা পড়েছিলেন কিনা সেটা দেখতে বেলা ১২টার দিকে আমাদের একটি দল অনুসন্ধান চালায়।
বেজমেন্টে আগুন পৌঁছায়নি, জায়গাটিতে যেসব মেশিনপত্র ছিল সেগুলোও অক্ষত রয়েছে। কিন্তু অনুসন্ধানে সেখানে কোনো ভিক্টিম পাওয়া যায়নি।
ফায়ার সার্ভিসের দলটি যখন বেজমেন্টে অনুসন্ধান চালায় তখনও নিচতলার কয়েকটি স্থানে অল্প আগুন জ্বলছিল বলে জানান তিনি।
ভবনটির ব্যাপারে কী করা হবে এবং কোন উপায়ে উদ্ধার অভিযান চালানো যাবে, এ ব্যাপারে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ সিদ্ধান্ত দেবে বলে জানান ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তা আব্দুল মন্নান।
এর আগে সকালে ভবনটি পরিদর্শন করে ভেতরে ঢুকে উদ্ধার অভিযান চালানো ‘খুবই বিপজ্জনক’ বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) পুরকৌশল বিভাগের অধ্যাপক রাকিব আহসান।
পরে বেলা ১১টার দিকে ফায়ার সার্ভিসের সহকারী পরিচালক আনোয়ারুল হক জানিয়েছিলেন, তারা ভবনটির বেজমেন্টে অনুসন্ধান চালাবে। তবে, ভবনটির চতুর্থ ও পঞ্চম তলার মেঝে ধসে পড়েছে এবং ভবনটি অনিরাপদ অবস্থায় থাকায় পুরো ভবনে অনুসন্ধান বা উদ্ধার অভিযান চালানো যাচ্ছে না।
গত রোববার ভোরে সাবেক মন্ত্রী গোলাম দস্তগীর গাজী গ্রেফতারের পর দুপুর থেকে তার মালিকানাধীন গাজী টায়ারসের কারখানাটিতে লুটপাট চালায় আশপাশের শত শত মানুষ।
পরে রাতে তারা কারখানার মূল ভবনটিতে আগুন লাগিয়ে দেয়। প্রায় ৪০ ঘণ্টা ধরে জ্বলে সেই আগুন।
এ ঘটনায় বেশ কয়েকজন নিখোঁজ রয়েছেন বলে দাবি করছেন তাদের স্বজনরা। প্রতিদিনই নিখোঁজদের খোঁজে কারখানা চত্বরে ভিড় করছেন তারা।
ঘটনার চারদিন পরও কারখানাটির ভেতরে উদ্ধার অভিযান শুরু করতে পারেনি ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্স। এতে ক্ষোভ প্রকাশ করেন নিখোঁজদের স্বজনরা। তোলেন নানা প্রশ্নও।
নিউজটি আপডেট করেছেন : Dainik Janata
